২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারির প্রথম ১৫ দিনে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এ সময়ে বিদেশীরা ২০৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেছেন। এর আগের ১৫ দিনে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে ১৫ দিনের ব্যবধানে বিদেশী লেনদেন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পাক্ষিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই কমছে। গত বছরেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে ডিএসইতে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ৩২ কোটি ডলার লেনদেন করেছেন। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল দেড় কোটি ডলার। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ২০ লাখ, মার্চে ১ কোটি ৪০ লাখ, এপ্রিলে ৩ কোটি ৫০ লাখ, মে মাসে ৪ কোটি ১০ লাখ, জুনে ২ কোটি ৩০ লাখ, জুলাইতে ৪ কোটি, আগস্টে ৩ কোটি ১০ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৩ কোটি ৬০ লাখ, অক্টোবরে ৩ কোটি, নভেম্বরে ২ কোটি ১৯ লাখ ও ডিসেম্বরে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলারের লেনদেন করেছেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। এ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।
ডিএসইর তথ্যানুসারে, গত নয় বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণ ৩ দশমিক ৮৫ থেকে কমে ১ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মধ্যে চার বছর ধরে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। ২০১৬ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা, যা ছিল এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৭ সালে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ছিল বিদেশীদের, টাকার অংকে যার পরিমাণ ১১ হাজার ৪৪৮ কোটি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ডিএসইতে বিদেশীরা যথাক্রমে ৯ হাজার ২৭৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন করেছেন এবং এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে তাদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪৮ ও ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
কভিডের বছর ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর পরের বছর ২০২১ সালে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের হার নেমে যায় ১ দশমিক ১০ শতাংশে এবং টাকার অংকে লেনদেন দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৬৪ কোটিতে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এ দুই বছরে এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনে বিদেশীদের অংশগ্রহণের হার ছিল যথাক্রমে দশমিক ৮৯ ও দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ সময়ে টাকার অংকে বিদেশীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ও ২ হাজার ১৬৭ কোটি। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ডিএসইতে বিদেশীদের লেনদেন কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ছিল গত বছর এক্সচেঞ্জটির মোট লেনদেনের ১ দশমিক ২২ শতাংশ।
পুঁজিবাজারে ক্রমান্বয়ে বিদেশীদের বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে এমএসসিআই ফ্রন্টিয়ার মার্কেট সূচকের রিটার্নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে শ্লথগতির কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশি রিটার্নের আশায় এখান থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে অন্যান্য অঞ্চলের বাজারগুলোতে বিনিয়োগ করেছেন। পাশাপাশি দেশের ব্যাক খাতের দুর্বলতা, তারল্য ঝুঁকি, মুদ্রা বিনিময় হার ঝুঁকি ও পর্যাপ্ত ভালো শেয়ারের জোগান না থাকার বিষয়গুলোও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।